কিশোর কিশোরী উভয়ের বয়ঃসন্ধির সমস্যা- বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর মন ও শিক্ষা” সিরিজের “বয়ঃসন্ধি সমস্যা ” বিভাগের একটি পাঠ।
কিশোর কিশোরী উভয়ের | বয়ঃসন্ধির সমস্যা | শিশুর মন ও শিক্ষা
এই সময় এরা সদাসর্বদাই ভয়ে ভয়ে থাকে এই ভেবে যে এদের যৌনঅঙ্গাদি জামাকাপড়ের আড়াল ভেদ করেও দৃশ্যমান, প্রত্যক্ষযোগ্য! মাসিকের ক্ষরণ অথবা নিশীথ ক্ষরণ নিয়ে এরা ভয়ে ভয়ে থাকে। চিহ্ন থেকে যাবে! অন্যে জেনে যাবে দেখে ফেলবে!
খোলামেলা ভাব বিনিময়ের সেতুপথে এই ভয় বা শংকার অবসান ঘটানো দরকার। যা সুন্দর এবং স্বাভাবিক, নান্দনিক অথবা প্রাকৃতিক তাকে নিয়ে একটি কথাই বলা যায় : এই মাত্র আর কিছু নয়? ঘুচে গেল ভয়! সহজ ও সপ্রতিভ হতে শেখালে এই অকারণ আশংকা, অনেক ক্ষেত্রে যা নেকামির পর্যায়ে চলে যায়, তা এড়ানো যায়।

হাত, পা, নাকের গঠন, দীর্ঘ এবং কৃশ বাহু, চাপা কাঁধ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনাকাঙ্ক্ষিত বিন্যাস এবং তুলনামূলক অসামঞ্জস্য দেখে এরা অনেক সময় মনমরা হয়ে যায়। ‘গাছে না উঠেই এক কাঁদি’ পাওয়া যায় কি? তা বোঝে না। একটা প্রক্রিয়া চলছে, অপেক্ষা কর, দেখ প্রতিমা কী রূপ নেয় শেষ পর্যন্ত। তা নয়! যেন এখুনি চাই যা তখন প্রাপ্য। ক্রমশ রূপ পাওয়া প্রতিমার কথাটা আগেও বলেছি। কৈশোরের বিঘ্ন-বিপদ ও বিপত্তি বিব্রত বোধে পর্যুদস্ত হয়।
আগে একবার বলা হয়েছে যে বয়ঃসন্ধির কালে শারীরিক – মানসিক দিক থেকে এরা দুর্বল, অপ্রতিভ, লাজুক, অকুশলী, এলেবেলে মতো কাজ করে বসে। প্রাপ্যে ও অর্জনে আগের মতো শক্তির যোগান খুঁজে পায় না। অন্যে পাঁচকথা বলে! (এই অন্যের আর কোনো কাজ নেই যে! পরচর্চায় অনেক আনন্দ জোটে) অনেকে হাসি ঠাট্টা করে, এমন কি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করে। (“লিখতে গিয়ে হাতে মুখে লেগেছে সব কালি? / নোংরা বলে তাই দিয়েছে গালি? ছি ছি, উচিত একি।/
পূর্ণশশী মাথে মসী- / নোংরা বলুক দেখি”
“কান দিওনা তোমায় কে কী বলে। তোমার নামে অপবাদ যে ক্রমেই বেড়ে চলে।”
—অপযশ। র. র. ২/১০-১১,
সময়ের মারে মরে। সময়ের আগে আগে যারা প্রাপ্তযৌবন হয়ে ওঠে তারা যেমন বিষম-বিসদৃশ বোধে আক্রান্ত হয় তেমনি সময় হলেও যাদের সময় আসে না তারাও বিষণ্ণ- বিমর্ষতার মার খেয়ে মরে। একদল আগাম আগমনীর মার খায, অন্যদল বিলম্বিত বেদনার জ্বালা বোধ করে।
সব দেহ-দেউলে প্রতিমার অধিষ্ঠান একই সময়ে শুরু হয় না; পূজার উপকরণ সংগৃহিত-সুবিন্যস্ত হতে সময় লাগে, ঢাকের বাদ্য আগেই বাজুক আর পরেই বোল তুলুক, মহাষ্টমীর মহাযজ্ঞ নিজনিজ পঞ্জিকা দেখেই শুরু হবে। ভাবনার নেই, দুর্ভাবনারও কিছু নেই। তবে খাদ্য-পুষ্টি-পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের প্রতি নজরটি থাকা চাই।
হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন :
যৌনাঙ্গের বৃদ্ধি ও অবস্থান নিয়ে এরা বিব্রত বোধ করে। আবার মনোরম উপলব্ধির অবগাহনে নাড়াঘাঁটাও করে। বৃদ্ধিটা স্বাভাবিক, ইচ্ছেটাও। কিন্তু ভ্রান্ত বিশ্বাস, ধারণা ও সংস্কারে মার খেয়ে মরমে মরে যায়। একটা অপরাধ বোধ, একটা লজ্জা একটা আশংকা এদের মনমানসিকতায় অনাকাঙ্ক্ষিত ছায়া ফেলে। রেতঃক্ষরণে শরীর নষ্ট হয় বলে মনে করে।
হস্তমৈথুন করলে নাকি পাগল পর্যন্ত হয়ে যায়! কী অসীম অজ্ঞতা। কৈশোর নিজের অবস্থান আর ক্রিয়াকলাপে নিজেই বিব্রত বোধ করে। কেন ? সীমার মধ্যে অসীমের আনন্দে কেন বাধা থাকবে? যে রমণীয়ত্ব প্রকৃতির নিজস্ব দান, যে পৌরুষ জীবন-ঋতুর অনিবার্য ফসল তাকে কেন অস্বীকারে অসম্মানে নাকচ করা হবে? হস্তমৈথুন ওদের পাগল করবে না; পাগলের মতো ঝুঁকে পড়লে মনোযোগ আর অধ্যবসায়ের বারোটা বাজবে।
